গানের পাখি

বৈশাখী ইবনাত (পাওশি)

জন্ম - ২৬ এপ্রিল (১২ বৈশাখ) ১৯৮৫

মহাপ্রয়াণ ৭ মে ২০১৫

বৈশাখী ইবনাত (পাওশি) ২৬ এপ্রিল (১২ বৈশাখ) ১৯৮৫ সালে রাজশাহী শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। মা মমতাজ বেগম ও বাবা মো: নজরুল ইসলাম সরকার এর ঘরে তিনি ছিলেন প্রথম সন্তান। মাত্র ৪ বছর বয়সে তাকে নাচের স্কুলে ভর্তি করা হয়। তখন মা গান শিখতেন নারায়নগঞ্জের প্রখ্যাত ওস্তাদ জনাব আবু তাহেরের নিকট। বাড়ীতে গানের চর্চা তাঁকে ক্রমান্বয়ে উচ্চাঙ্গ সংগীতের প্রতি অনুরাগী করে তুলে। তিনি শিশু একাডেমী  ছবি আঁকা শিখতেন। তিনি খুব ভাল ছবি আঁকতেন বিশেষ। মানুষের মুখের অভিব্যক্তিসহ অবিকল ছবি আঁকতে পারতেন। কিন্তু তার সংগীত সত্তা সর্বদা তাঁকে টানত। সব ছেড়ে তিনি সঙ্গীতে শিক্ষায় মনোনিবেশ করেন। প্রকৃত অর্থে ছোট বেলাতে তিনি মায়ের নিকট থেকে গানের ওস্তাদ ও হারমোনিয়াম দুটোই তার নিজের দাবী করে নিয়ে নেন। অত:পর নৃত্য, ছবি আঁকা ছেড়ে মায়ের সংগে ওস্তাদ আবু তাহেরের নিকট কন্ঠশীলন করতে থাকেন।

শিক্ষা জীবনে তিনি মেধাবী ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে সমাজকল্যাণ বিষয়ে মাষ্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে এমপিএইচ বিষয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় ৭ মে ২০১৫ তারিখে মহাপ্রয়াণ ঘটে।

সঙ্গীত পরিচালক শেখ সাদী খান

শেখ সাদী খান

সংগীত পরিচালক ও সুরকার

একজন সুরকার মালা গাঁথে কিন্তু গলায় পরায় আরেক জন সে হল শিল্পী। সুরতাল তৈরী করা কঠিন তার চেয়ে আরো কঠিন তাকে গানের রূপ দিয়ে শ্রোতার উপযোগ্য করা ও তাদের মন জয় করা। তরুণী পাওশি গান করার আবদার নিয়ে যে দিন আমার কাছে প্রথম আসে তখন তাকে একটি নতুন গান গাইতে দিয়েছিলাম। সে একবার সুর শুনে তাৎক্ষনিকভাবে গানটি গেয়ে দেয়। আমার মনে হয়, সে শিল্পী হয়েই জম্মেছে তাকে শেখানোর কিছু নেই। তাকে গান দিলেই গাইতে পারতো।

এরপর আমি তার রুচি অনুযায়ী কন্ঠের সংগে মানানসই কতিপয় গানের বানী নির্বাচন করে সুর দিই ও গাইতে দিই। সে সাবলীলভাবে গানগুলো গেয়েছে। সে আগেও এরকম অনেক গান গেয়েছে। তবে এ্যালবাম আকারে গানের প্রকাশ এই প্রথম। সে বেঁচে থাকতে পড়াশুনায় ব্যস্ত থাকায় এ্যালবামটি প্রকাশ করতে পারেনি। আমার হাত ধরে গাওয়া এই গানগুলো তার সৃষ্টি। আমি যেমনটা চেয়েছিলাম তেমনি করে সে গানগুলো গেয়েছে। সে প্রায়ই বলত এরপর  ক্ল্যাসিক্যাল ও সেমিক্লাসিক্যাল গানের এ্যালবাম বের করবো। যাহোক তা আর সম্ভব হয়ে উঠেনী। এগুলো প্রকাশ করার জন্য তার মা-বাবা যে উদ্যোগ নিয়েছেন সেজন্য তাঁদের সাধুবাদ জানাই।

আমি বিশ্বাস করি তার গাওয়া গান গুলো মানুষের মনছুঁয়ে যাবে। শ্রোতারা তাকে মনে রাখবে। তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।

কন্ঠশিল্পী পাওশির কাব্য কথা

সম্পাদক

বৈশাখী ইবনাত (পাওশি) ২৬ এপ্রিল (১২ বৈশাখ) ১৯৮৫ সালে রাজশাহী শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। মা মমতাজ বেগম ও বাবা মো: নজরুল ইসলাম সরকার এর ঘরে তিনি ছিলেন প্রথম সন্তান। মাত্র ৪ বছর বয়সে তাকে নাচের স্কুলে ভর্তি করা হয়। তখন মা গান শিখতেন নারায়নগঞ্জের প্রখ্যাত ওস্তাদ…………………..

পাওশির জন্য কিছু কথা

মো: রাশেদুল হাছান (জীবন)

ওস্তাদ ড: হারুন রশিদ এর বাসাতে প্রথম দেখি পাওশিকে তখন সে যষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। সে দিন সে কয়েকটি রাগ প্রধান গান গেয়েছিল। অবাক হয়েছিলাম তার কন্ঠের শক্তি এবং সেই সাথে সংগীত সাধনার প্রতিভার ইচ্ছা শক্তি দেখে। তারপর থেকে পারিবারিকভাবে আমরা ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ি।…………….

গানের পাখি পাওশি

মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক

জন্ম-মৃত্যু দুটি পরিপূরক অনুষঙ্গ। জন্ম মাত্রই মৃত্যু অবধারিত। তদুপরি কিছু কিছু মৃত্যু মেনে নেয়া বেশ মুশকিল হয়ে পড়ে। কিছুতেই মনকে মানানো যায় না। এ ধরণের অনাকাঙ্খিত কিংবা অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর বেদনার রেশ স্বজনদের হৃদয়ে রয়ে যায় আমৃত্যু। বুকের গহীনে জগদ্দল পাথরের …………………………

আমার প্রিয় ছাত্রী প্রিয় মুখ!

নূরুল ইসলাম

আমি অর্নাস ও মাস্টার্স ক্লাসে পাওশিকে পাঠদান করেছি, তাকে চেনার মতো সবচেয়ে বড় উদাহরণ হল ভালো কথা, ভালো ব্যবহার এবং অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের এক উজ্জ্বল তারকা। সে ক্লাসে ছিল সবার মধ্যমনী ও মিষ্ঠভাষী। তার আচরনে আমরা সবাই মুগ্ধ ছিলাম। এমন হাস্যজ্জ্বল, প্রাণ চঞ্চল ছাত্রী খুব কমই পাওয়া যায়।

আমাদের রাজকন্যা

কবিতা আন্টী //শিরীন কবিতা আখতার

আমার হিরামন পাখী //আমার প্রাণের প্রাণ পাখী //তোরে কোথার রাখি পাখীরে //সবই মিছে আর ফাঁকি।

এত আদর আর যত্নের পরেও আমার নিষ্পাপ নিস্কলুষ সোনার ময়না পাখীটা যে ………..

১.    লতা মুঙ্গেশকর যোগী প্রকৃতির মানুষ। তাঁর সংগে আমিও যোগী হয়ে সংগীতের সাধনা ও পড়ালেখার সাধনা ঠিকমতো করতে পারব বলে আমি বিশ্বাস করি।

২.    আমার জীবনের লক্ষ্য হল অসংখ্য মানুষকে আনন্দ দেওয়া। ছোট বেলা থেকে কিন্তু শিল্পী হওয়ার মাধ্যমে আনন্দ দেওয়ার এই চিন্তাটা ভালভাবে এসেছে অনার্স এ ভর্তি পর হতে।।

৩.    অনার্স পড়ার সময় বুঝেছি বাংলা দেশের প্রেক্ষাপটে চাকরী করতেই হবে। তখন আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে, চাকরী করেও পাশাপাশি গান করব। আমার এতে কোন সমস্যা হবে না।

৪.     আমার জীবনের আসল লক্ষ্য হল সংগীতের মাধ্যমে সমাজের জন্য অবদান রাখা। মাস্টার্স ডিগ্রী ভালভাবে সমাপ্ত করে চাকুরী পাওয়ার জন্য যোগ্যতা অর্জন করা। পরবর্তীতে শখ করে নয়; খুব প্রয়োজন না হলে চাকরী করবো না।

৫.    গানকে আমার আনন্দের উৎস হিসেবে ছোট বেলাতেই নিতে পেরেছি। তেমনি লেখাপড়াকেও আনন্দের উৎস হিসেবে নিতে পেরেছি। তাই আমি নিজের জন্য অতিরিক্ত কোন কিছু চাই না।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে প্রয়াত শিল্পী বৈশাখী ইবনাত পাওশির গানের অ্যালবাম কত ফুল ঝরে গেছে’র মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মো. জাকির হোসেন আকন্দ। 

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ঋত্বিক নাট্যপ্রাণ লিয়াকত আলী লাকির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক শেখ সাদী খান, বিজয় টিভির নির্বাহী পরিচালক নায়লা বারী, বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ অনীল কুমার সাহা, বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিল সহ আরও অনেকে।

কতো ফুল ঝরে গেছে |

Koto Full Jhore Geche

আমি কি জানতাম

কতো ফুল ঝরে গেছে

হৃদয়ের চেয়ে ভালো

পারো যদি দাও ফিরিয়ে

কথা বলে কাজ নেই

পথে যেতে যেতে

নীল কাগজে লিখে দিলাম

ভুলেও তুমি গানেও

জানালা খুলে দেখি

আকাশে যেমন লক্ষ্য

দেশ প্রেমিক হয় যদি

মনের মানুষ যদি কারো

House-1, Level- 8, House-1, Road-1, Niketon, Gulshan, Dhaka, Bangladesh