গানের পাখি

বৈশাখী ইবনাত (পাওশি)

জন্ম - ২৬ এপ্রিল (১২ বৈশাখ) ১৯৮৫

মহাপ্রয়াণ ৭ মে ২০১৫

পাওশির লেখা ডায়েরী

১.     লতা মুঙ্গেশকর যোগী প্রকৃতির মানুষ। তাঁর সংগে আমিও যোগী হয়ে সংগীতের সাধনা ও পড়ালেখার সাধনা ঠিকমতো করতে পারব বলে আমি বিশ্বাস করি।

২.    আমার জীবনের লক্ষ্য হল অসংখ্য মানুষকে আনন্দ দেওয়া। ছোট বেলা থেকে কিন্তু শিল্পী হওয়ার মাধ্যমে আনন্দ দেওয়ার এই চিন্তাটা ভালভাবে এসেছে অনার্স এ ভর্তি পর হতে।।

৩.    অনার্স পড়ার সময় বুঝেছি বাংলা দেশের প্রেক্ষাপটে চাকরী করতেই হবে। তখন আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে, চাকরী করেও পাশাপাশি গান করব। আমার এতে কোন সমস্যা হবে না।

৪.     আমার জীবনের আসল লক্ষ্য হল সংগীতের মাধ্যমে সমাজের জন্য অবদান রাখা। মাস্টার্স ডিগ্রী ভালভাবে সমাপ্ত করে চাকুরী পাওয়ার জন্য যোগ্যতা অর্জন করা। পরবর্তীতে শখ করে নয়; খুব প্রয়োজন না হলে চাকরী করবো না।

৫.    গানকে আমার আনন্দের উৎস হিসেবে ছোট বেলাতেই নিতে পেরেছি। তেমনি লেখাপড়াকেও আনন্দের উৎস হিসেবে নিতে পেরেছি। তাই আমি নিজের জন্য অতিরিক্ত কোন কিছু চাই না।

৬.    আমি বিশ্বাস করি নিয়ন্ত্রিত জীবন, সুখী জীবন। তাই আমি সব সময় জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পথ চলছি। মৃত্যুবরণের আগ পর্যন্ত আমি এ রকম থাকতে চাই। আমি পারব।

৭.     নিজস্ব সত্ত্বা বজায় রেখে সব সময় চলবো। ফলে একটি ফুলকে ভালভাবে দেখে যেমন সকলে মুগ্ধ হয় তেমনি আমাকে দেখে সবাই মুগ্ধ হবে।

৮.    আমার ছোট বেলা থেকেই অন্তরের তাড়না অনুভব করেছি যে, আমি নিজের আনন্দের জন্য গান করেছি ও অনেক মানুষকে গান শুনিয়ে আনন্দ পেয়েছি। এটি আমার পরিবারের বাসনা। তাই আমি যেহেতু already বাসাতে/স্টেজে এবং বিটিভিতে গান শুনিয়ে আনন্দ পেয়েছি সে কাজই আমি করব। গানই আমার জীবনের লক্ষ্য। আমি সংগীতের সাধক হতে চাই। আর কিছু চাই না।

৯.    আমি বর্তমানে একজন সুখী মানুষ। আল্লাহ্‌র রহমতে জীবনের লড়াইয়ে সত্যি সত্যি আমি বিজয়ী বীর। জীবনের এ লড়াইয়ের মাধ্যমে বাকী জীবন সুন্দর করে যাবো। আল্লাহ্‌ আমাকে সুযোগ দিয়েছেন জীবনকে সুন্দর করার জন্য। এই সুযোগ আর ছাড়ছি না। আমার নানা-নানী তাদের ছেলেদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিযুদ্ধে পাঠিয়েছেলেন নিজে থেকে। তারা বিজয়ী বীর ছিলেন। আমিও তাদের মতে বিজয়ী বীর হব।

১০.   আমি সারা জীবন ভাল কাজে নিয়োজিত থাকবো, কর্মব্যস্ত থাকবো। সুখী থাকবো। সারাজীবন নিজেকে ১০০ ভাগ পাপ কাজ হতে নিবৃত রাখবো। নিয়মিতভাবে আল্লাহ্‌র কাছে শুকরিয়া আদায় করবো।

১১.   আমি সমাজের কিছু মানুষকে দেখেছি তারা শুধুমাএ সমস্যার কথা বলে। সমস্যা সমাধানের কথা বলে না। আল্লাহ্‌ তাদেরকে সেই ক্ষমতা দেয়নি।

১২.   সামাজিক সমস্যা দেখলে সমস্যা সমাধানের জন্য সমাজের কল্যাণ করার কথা মনে হয়। কিন্তু ব্যর্থ হচ্ছি বার বার। আমার ছোট বেলা থেকে সমাজের মানুষের সমস্যার সমাধান করতে ইচ্ছে করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনে অবদান মানুষের কল্যান জন্য রাখতে পারিনি। তাই মাঝখানে হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আর হতাশ নই।

১৩.   আমি ন্যায়ের পথে আছি ছোট বেলা থেকেই। এটি আমার আম্মুর অবদানের কারনে সম্ভব হয়েছে।

১৪.   আন্তর্জাতিকভাবে এটা সত্য যে, নারীরা সকল দেশে কোন না কোনভাবে নির্যাতিত হয়। তাই তাদের জন্য আমার কষ্ট হয়।

১৫.   আজকে নববর্ষ (২০১২)। হঠাৎ আমি এলবামের গানের সুরকার শেখ সাদী চাচার কাছে শুনলাম যে, এলবামের ৮টি গানের মিক্সিং শেষ হয়েছে। কিন্তু বাকী ৪টি গানের মিক্সিং করতে যেয়ে কম্পিউটারের সমস্যার কারনে ঘটনাচক্রে কিছু অংশ মুছে যায়। এ কথা শুনে মনে হল একটি এলবামের কাজ এক বছরে শেষ হল না।

১৬.   পরবর্তীতে জানতে পারলাম কম্পিউটারটিতে ভুল হওয়ার কারনে গান মুল ডিস্ক-এ সেভই হয়নি। আসলে এ সমস্যার কারণ জানতে সুবিধা হল এটাই যে পরবর্তীতে গানের রেকর্ডিং শেষ করার পর রেকডিস্টকে অন্তত পক্ষে মনে করিয়ে দিতে পারব আপনি ডিস্ক-এ গান সেভ করুন। আমি শেখ সাদী চাচাকে বললাম কেন রেকডিং সমস্যার কারনে আমার গান নষ্ট হলো। দুজন রেকডিস্ট একই দিনে কাজ করতে গিয়ে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। কম্পিউটার যথাযথভাবে পরিচালনা করতে না করার কারনেই এমন হয়েছে। আমি বললাম আমিতো কম্পিউটার সম্পর্কে জানি। কম মনে হল এগুলো (রেকর্ডিং) সম্পর্কে আমার কিছু আইডিয়া রাখা উচিৎ। তাই আমি এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। কারণ এ গানই শেষ নয়। পরে আরো রেকর্ডিং করতে হবে।  শেখ সাদী চাচাকে বললাম আমার কথায় রাগ করেনিতো। তিনি বললেন তুমি তোমার কন্ঠের যত্ন নাও।

       ১২.০১.১২ তারিখে মনের কিছু কথা তবলার মদন স্যারকে বলতে ইচ্ছা করল।তাই বললাম যেমন বাইরে সাধারনত: যা বলি না। বললে অহংকার করা হবে সে জন্য। কিন্তু আপনাকে বলছি মনের সুখ-দু:খ প্রকাশের জন্য। অহংকার প্রকাশের জন্য কখনও নয়। God যে প্রতিভা আমাকে দিয়েছেন আমি তা কাজে লাগাতে চাই। যদি তা কাজে লাগাতে না পারি তবে আমার জীবনটা ব্যর্থ হবে বলে মনে করি। সবই এখন আল্লাহ্‌র ইচ্ছা। আমি তো চেষ্টা করছি। প্রতিভা বিকাশের বয়স সাধারনত: ৫০ বছর পর্যন্ত থাকে। অতএব অস্থির হওয়ার কিছু নেই। ধৈর্য্য ধরতে হবে।

১৮.   আরো কিছু কথা আজ (১২.০১.২০১২) মনে হলো। কিন্ত সাফল্যের জন্য অস্থিরতা/তাড়াহুড়ায় আমি পছন্দ করি না। ধীরে সুস্থে Step by step কাজ করাই আমার পছন্দ।

১৯.   আমার এখন লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের বিখ্যাত সংগীত শিল্পী হওয়া। পরবর্তী লক্ষ্য হল ২-৩ বছরের মধ্যে দেশ ছাড়িয়ে উপ-মহাদেশের এবং বিশ্বের অন্যতম কন্ঠ শিল্পী হওয়া।