গানের পাখি

বৈশাখী ইবনাত (পাওশি)

জন্ম - ২৬ এপ্রিল (১২ বৈশাখ) ১৯৮৫

মহাপ্রয়াণ ৭ মে ২০১৫

সঙ্গীত পরিচালক শেখ সাদী খান

শেখ সাদী খান

সংগীত পরিচালক ও সুরকার

একজন সুরকার মালা গাঁথে কিন্তু গলায় পরায় আরেক জন সে হল শিল্পী। সুরতাল তৈরী করা কঠিন তার চেয়ে আরো কঠিন তাকে গানের রূপ দিয়ে শ্রোতার উপযোগ্য করা ও তাদের মন জয় করা। তরুণী পাওশি গান করার আবদার নিয়ে যে দিন আমার কাছে প্রথম আসে তখন তাকে একটি নতুন গান গাইতে দিয়েছিলাম। সে একবার সুর শুনে তাৎক্ষনিকভাবে গানটি গেয়ে দেয়। আমার মনে হয়, সে শিল্পী হয়েই জম্মেছে তাকে শেখানোর কিছু নেই। তাকে গান দিলেই গাইতে পারতো।

এরপর আমি তার রুচি অনুযায়ী কন্ঠের সংগে মানানসই কতিপয় গানের বানী নির্বাচন করে সুর দিই ও গাইতে দিই। সে সাবলীলভাবে গানগুলো গেয়েছে। সে আগেও এরকম অনেক গান গেয়েছে। তবে এ্যালবাম আকারে গানের প্রকাশ এই প্রথম। সে বেঁচে থাকতে পড়াশুনায় ব্যস্ত থাকায় এ্যালবামটি প্রকাশ করতে পারেনি। আমার হাত ধরে গাওয়া এই গানগুলো তার সৃষ্টি। আমি যেমনটা চেয়েছিলাম তেমনি করে সে গানগুলো গেয়েছে। সে প্রায়ই বলত এরপর  ক্ল্যাসিক্যাল ও সেমিক্লাসিক্যাল গানের এ্যালবাম বের করবো। যাহোক তা আর সম্ভব হয়ে উঠেনী। এগুলো প্রকাশ করার জন্য তার মা-বাবা যে উদ্যোগ নিয়েছেন সেজন্য তাঁদের সাধুবাদ জানাই।

আমি বিশ্বাস করি তার গাওয়া গান গুলো মানুষের মনছুঁয়ে যাবে। শ্রোতারা তাকে মনে রাখবে। তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।

কন্ঠশিল্পী পাওশির কাব্য কথা

সম্পাদক

বৈশাখী ইবনাত (পাওশি) ২৬ এপ্রিল (১২ বৈশাখ) ১৯৮৫ সালে রাজশাহী শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। মা মমতাজ বেগম ও বাবা মো: নজরুল ইসলাম সরকার এর ঘরে তিনি ছিলেন প্রথম সন্তান। মাত্র ৪ বছর বয়সে তাকে নাচের স্কুলে ভর্তি করা হয়। তখন মা গান শিখতেন নারায়নগঞ্জের প্রখ্যাত ওস্তাদ…………………..

পাওশির জন্য কিছু কথা

মো: রাশেদুল হাছান (জীবন)

ওস্তাদ ড: হারুন রশিদ এর বাসাতে প্রথম দেখি পাওশিকে তখন সে যষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। সে দিন সে কয়েকটি রাগ প্রধান গান গেয়েছিল। অবাক হয়েছিলাম তার কন্ঠের শক্তি এবং সেই সাথে সংগীত সাধনার প্রতিভার ইচ্ছা শক্তি দেখে। তারপর থেকে পারিবারিকভাবে আমরা ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ি।…………….

গানের পাখি পাওশি

মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক

জন্ম-মৃত্যু দুটি পরিপূরক অনুষঙ্গ। জন্ম মাত্রই মৃত্যু অবধারিত। তদুপরি কিছু কিছু মৃত্যু মেনে নেয়া বেশ মুশকিল হয়ে পড়ে। কিছুতেই মনকে মানানো যায় না। এ ধরণের অনাকাঙ্খিত কিংবা অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর বেদনার রেশ স্বজনদের হৃদয়ে রয়ে যায় আমৃত্যু। বুকের গহীনে জগদ্দল পাথরের …………………………

গানের পাখি পাওশি

মাহফুজা হিলালী

পাওশী; একটি দীর্ঘশ্বাস। ……..পাওশীর কথা মনে হলেই একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে। কেন এই অসময়ে চলে যাওয়া। স্নিগ্ধ একটি মেয়ে ছিল পাওশী। দেখা হলেই মিষ্টি করে হাসতো। আমার ছেলে তিন বছরের টইটইকে নিয়ে ওর কাছে গান শেখাতে গিয়েছিলাম।সে দিনই ওকে প্রথম দেখেছিলাম; বলেছিল, ‌‘এতো ছোট ………….

প্রিয় পাওশি আপু

উমা

মাঝে মাঝে খুব মনে পড়ে তোমার কথা। মনে পড়ে কিভাবে ছোটবেলায় তুমি গানের প্রতি ভালবাসা তৈরি করে দিয়েছিলে আমার মনে। মনে পড়ে সেইসব দিনের কথা যখন তুমি নিজ উদ্যোগে আমাদের গান শিখাতে। জানো আপু মাঝে মাঝে সেইসব বিকাল বেলাতে ফিরে যেতে খুব ইচ্ছা করে যখন তুমি আমাদের গান নিয়ে স্বপ্ন……………

এক বিশেষ ছাত্রীর স্মৃতি কথা

মো: আমিনুল ইসলাম

আমি সিদ্ধেশ্বরী কলেজের মনোবিজ্ঞান বিষয়ের একজন শিক্ষক। কলেজের ইংরেজী বিষয়ের একজন শিক্ষকের মাধ্যমে এই বিশেষ ছাত্রীর সাথে যোগাযোগ হয়। পরবর্তীতে তাকে পড়ানোর দায়িত্ব পেলাম। তার বাসায় গিয়ে তাকে পড়াতাম। মাঝে মাঝে সে আমার বাসায় এসে পড়ে যেত। পড়াতে পড়াতে তাকে…………….

পাওশি আপু

মার্শিয়াত

একই কলোনিতে থাকায় সুবাদে পাওশি আপুকে চিনতাম। আপুর নিকট ছোট বেলায় গান শিখতাম। আমরা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে আপুর গান শুনতাম। সুন্দর মনের একজন মানুষ ছিলেন আপু। আপু তুমি খুব ভালো থাকো ওপারে।…………

পাওশি

গোলাম শফিক

পাওশি তুই চলে গেলি //ঝরে গেল একটি আফ্রিকান ফুল//তোর চলে যাওয়ার সংবাদে//পাড়ি দিতে পারিনি মালয় সাগর। //সেই এক উদ্যানের চড়াইভাতিতে//তুই বলেছিলি, কাকু আজ আমি নাচবো…………..

‘গানের পাখি’

মিতা আহমেদ

ওগো শুভ্র কোকিল//এতোটা কাল ধরে//বিরতিহীন সুরেসুরে;//কারে চেয়েছিলে তুমি//কারেই বা বেঁধেছিলে বুকে?//এতো আকুল করা সুর//এতো বাঁধভাঙ্গা তাল…….. …… …………………

আমার প্রিয় ছাত্রী প্রিয় মুখ!

নূরুল ইসলাম

আমি অর্নাস ও মাস্টার্স ক্লাসে পাওশিকে পাঠদান করেছি, তাকে চেনার মতো সবচেয়ে বড় উদাহরণ হল ভালো কথা, ভালো ব্যবহার এবং অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের এক উজ্জ্বল তারকা। সে ক্লাসে ছিল সবার মধ্যমনী ও মিষ্ঠভাষী। তার আচরনে আমরা সবাই মুগ্ধ ছিলাম। এমন হাস্যজ্জ্বল, প্রাণ চঞ্চল ছাত্রী খুব কমই পাওয়া যায়।

আমাদের রাজকন্যা

কবিতা আন্টী //শিরীন কবিতা আখতার

আমার হিরামন পাখী //আমার প্রাণের প্রাণ পাখী //তোরে কোথার রাখি পাখীরে //সবই মিছে আর ফাঁকি।

এত আদর আর যত্নের পরেও আমার নিষ্পাপ নিস্কলুষ সোনার ময়না পাখীটা যে ………..

প্রিয় বান্ধবী

সুলতানা কামরুজ্জাহান চৌধুরী (এহসান)

সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজে পরিচয় হয় বৈশাখী ইবনাত (পাওশির) সাথে। সেখানে থেকে শুরু হয় বন্ধুত্বের। কাকতালীয়ভাবে আমাদের বাসা ছিলো বেলী রোডের অফিসার্স কোয়ার্টারে পাশাপাশি। তাই সখ্যতা দিনদিন বেড়েই চলল। একদিকে . …… ……..

পাওশির স্মৃতি কথা

সালাউদ্দিন

পাওশি শান্ত, সৌম্য, সুন্দর এক ছাত্রী। সে স্পেশাল ইয়ার (২০১০) এ অধ্যয়নরত ছিল। পরবর্তীতে জেনেছি সে ইতোমধ্যে পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছে। মনে রাখার মতো সে প্রিয় মুখ ছিল। তাকে নিয়ে কি লিখব ভাবতেই পারছিনা। প্রকৃতপক্ষে এমন ছাত্রী খুব কমই পেয়েছি যে, একাধিক ভাষায় অবলীলাক্রমে বিভিন্ন শিল্পীর 

যেমন দেখেছি পাওশিকে

ফরিদা ইয়াছমিন

আমি তখন বাস করতাম বেইলী স্কোয়ার অফিসার্স কোয়ার্টারে। আমাদের বাসার সামনে ১৩নং বাসায় একজন নতুন কর্মকর্তা এলেন, নাম মো: নজুরুল ইসলাম সরকার। তাদের সংসারে ছিল ছোট একটি মেয়ে, নাম তার পাওশি। অফিস সময়ের পর বাসা ছিল আমার ভালো লাগার বিষয় ছিল আমার মায়ের আদর ও সন্তানদের …..