আমাদের রাজকন্যা

পাওশির স্মৃতি কথা

কবিতা আন্টী

শিরীন কবিতা আখতার

বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ)

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল, রাজশাহী।

আমাদের রাজকন্যা

আমার হিরামন পাখী

আমার প্রাণের প্রাণ পাখী

তোরে কোথার রাখি পাখীরে

সবই মিছে আর ফাঁকি।

এত আদর আর যত্নের পরেও আমার নিষ্পাপ নিস্কলুষ সোনার ময়না পাখীটা যে কখন ভিতরে ভিতরে এতটা অভিমানী আর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল আমি কেন, আলমগীর সাহেব, মভাবী নজরুল ভাই কেউ একবারও ভাবতে পারিনি। আমাদের দুই পরিবারের একমাত্র প্রিন্সেস, শান্তির দূত সে জানে না কিভাবে সত্যের সঙ্গে মিথ্যা মিশ্রিত করে জনপ্রিয়তার  বেসাতি করতে হয়, কিভাবে মিথ্যা প্রশংসা করে অহেতুক কাউকে খুশি করতে হয়। জানে না দামী পোশাক, দামী গহনা দিয়ে কিভাবে নকল রুপের প্রদর্শনী করতে হয়। তার মনের সৌন্দর্য্য one Million ব্রান্ডের পারফিউমের মতো। তার উপস্থিতিই যে কোন পরিবেশকে সুন্দর আর সহজ করে তোলে। সঙ্গে তার সুললিত কন্ঠের গান শ্রোতাদের মনে স্বপ্নীল আবহ তৈরী করে ধরে রাখে ঘন্টার পর ঘন্টা। কথা ছিল  আমার চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণের পর পাওশির গানের স্কুলে বাচ্চারা গান শিখবে, পাওশি গাইবে, আলমগীর সাহেব তবলায় সংগত করবে। আমি, নজরুল ভাই সার্বক্ষণিক উৎসাহ আর পরামর্শ দেব, বিনিময়ে ওর গান শুনে প্রাণ জুড়াবে। আর ওর প্রাণ ভোমরা ওর মা মমভাবী আমাদের সব পরিকল্পনার ব্যবস্থাপক, প্রাণ দিয়ে, শক্তি দিয়ে, দু হাত দিয়ে সাহসের সঙ্গে আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবেন। এমনই তো কথা ছিল আমার প্রিন্সেস ডায়না। এই অশান্ত, অস্থীর, অসম, অসুস্থ, প্রতিযোগিতার পৃথিবীতে তুমি আর তোমার গানই তো ছিল আমাদের এই কয়টা মানুষের আত্মার শান্তি। জানি না সৃষ্টিকর্তা আমাদের কোন অপরাধের শাস্তি দিলো। আমাদের ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে পড়লে ভিন্নধারায় জীবন খুঁজতে আর আমাদের ফেলে গেলে অমোচনীয় বিষন্নতা আর অপরিমেয় নৈরাশ্যের মধ্যে। একাকীত্বের এই সময়গুলোতে তোমার চিন্তাচর্চাই তো একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি বিশ্বাস করি না তুমি নাই। তুমি আছ আমাদের অন্তরে, নয়নে মননে আর জান্নাতুল ফেরদৌসের ফুলপরী হয়ে। পরিসংখ্যান দিয়ে কারো শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের অভিলাষ পন্ডশ্রমের নামান্তর। তাই তোমার গানের একমাত্র সিডি আমাদের স্বপ্ন পূরণ করবে সেই আশায় আবার বুক বাধঁছি।

Leave a Reply