এক বিশেষ ছাত্রীর স্মৃতি কথা

এক বিশেষ ছাত্রীর স্মৃতি কথা

মো: আমিনুল ইসলাম

সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান

মনোবিজ্ঞান বিভাগ, সিদ্বেশ্বরী কলেজ, ঢাকা।

তাং-১০-০২-২০১৯

আমি সিদ্ধেশ্বরী কলেজের মনোবিজ্ঞান বিষয়ের একজন শিক্ষক। কলেজের ইংরেজী বিষয়ের একজন শিক্ষকের মাধ্যমে এই বিশেষ ছাত্রীর সাথে যোগাযোগ হয়। পরবর্তীতে তাকে পড়ানোর দায়িত্ব পেলাম। তার বাসায় গিয়ে তাকে পড়াতাম। মাঝে মাঝে সে আমার বাসায় এসে পড়ে যেত। পড়াতে পড়াতে তাকে চিনলাম, জানলাম। সে একজন স্পষ্টবাদী, সৎ, প্রগতিশীল  চিন্তা ও সুন্দর মনের মানুষ। সে গানের শিল্পীও বটে। মাঝে মাঝে সে গান শুনাতো, তার সুকন্ঠ ও বাচন ভঙ্গি আমাদের কে মুগ্ধ করত। নিয়মিত গানের চর্চা করার জন্য আমারা তাকে উৎসাহ দিতাম। শিক্ষকদের প্রতি তার শ্রদ্ধা, সম্মান ও ভালবাসা ছিল অকল্পনীয়। তার এত গুনাবলী আমাদের মনে ও বেশ দাগ কাটত এবং পরবর্তীতে রক্তের সম্পর্ক আত্মীয় না হয়েও পারিবারিকভাবে বেশ ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে উঠে। আমরা উভয় ফ্যামিলিই বেশ যোগাযোগ রাখতাম এবং বাসায় আসা যাওয়া করতাম। এই জন্য শতভাগ ক্রেডিট এই বিশেষ ছাত্রীকে দেয়া যেতে পারে।

১৯৯২ সাল হইতে অদ্যাবধি শিক্ষকতার করার সুবাধে হাজার হাজার ছাত্র/ছাত্রী পড়ানোর সুযোগ হয়েছে। আমার স্মৃতি শক্তি দূর্বল হওয়ায় কারণে সকল ছাত্র/ছাত্রীদের নাম খুব একটা মনে রাখতে পারিনা। কিন্তু পাওশি এমন একজন ছাত্রী যার কর্মতৎপরতা ওগুনাবলীর জন্য তাকে মনে রাখতে বাধ্য করেছে এবং আমাদের মনে সে এমনভাবে দাগ কেটেছে যে তাকে আর কোনদিন ভুলার সুযেগ হবে না। আর এখন পরজগতে চলে যাওয়ার কারণে প্রতি মূহুর্তে তাকে মনে পড়ছে, কষ্ট অনুধাবন করছি আর ভাবছি আল্লাহতায়ালা তাকে কেন ক্ষণজন্মা করে পৃথিবীতে পাঠালেন।

আমাদের এই দুই পরিবারের পারিবারিক বন্ধন বেশ অটুট আমার কারণে পাওশির বিয়ে নিয়েও আমরা বেশ ভাবতাম এবং তার বাবা মার পরামর্শে করেকজন পাত্রও দেখিয়েছিলাম কিন্তু নিয়তির নীলাখেলা আমাদের সবাইকে স্তব্ধ করে সে পরজগতে চলে যায়। পাওশি এখন আমাদের নিকট একটি উজ্জ্বল ধ্রুবতারা।

তার গানের এ্যালবাম ‌‌‘কত ফুল ঝরে গেছে’ প্রকাশের মধ্যে সে যেন আমাদের মধ্যে চিরকাল বেঁচে থাকে এই কামনা করি।

Leave a Reply