গানের পাখি পাওশি

গানের পাখি পাওশি

মাহফুজা হিলালী

নাট্যকার গবেষক।

পাওশী; একটি দীর্ঘশ্বাস।

পাওশীর কথা মনে হলেই একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে। কেন এই অসময়ে চলে যাওয়া। স্নিগ্ধ একটি মেয়ে ছিল পাওশী। দেখা হলেই মিষ্টি করে হাসতো। আমার ছেলে তিন বছরের টইটইকে নিয়ে ওর কাছে গান শেখাতে গিয়েছিলাম। সে দিনই ওকে প্রথম দেখেছিলাম; বলেছিল, ‌‘এতো ছোট ছাত্র আমার কাছে আর আসেনি।‘ তারপর আস্তে আস্তে আন্তরিকতা হয়েছিল। কী সুন্দর গানই না গাইতো। গান শুনতে চাইলে কখনো না করতো না। হাসি মুখে একের পর এক গান শুনিয়ে যেতো। পাওশীর কন্ঠে কী এক মাদকতা ছিল। এর গান শুনলে মন প্রশান্ত হয়ে যেতো। নূরজাহানের গানগুলো এতো চমৎকার গাইতো দেশাত্মাবোধক, নজরুলগীতি, রবীন্দ্রসংগীত, আধুনিক, রাগ, পুরোনো দিনের গান, উর্দু ক্ল্যাসিক, হিন্দি ক্ল্যাসিক-কত শুনেছি ওর কন্ঠে। সত্যিই এক বিরল প্রতিভা। হ্যাঁ পাওশির একটু অহংবোধ ছিল। শিল্পীদের একটু অহংবোধ থাকতেই হয়। অহংকার সে করতো গানের ক্ষেত্রেই। অন্য কোনো ক্ষেত্রে নয়। সংসারে কোনো জটিলতা বুঝতো না। সরল এবং নৈতিক চিন্তা করতে দেখেছি। সব সময় সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশি সরলতা ছিল ওর। তাই সাধারণকে ছাড়িয়ে হয়ে উঠেছিল অসাধারণ। লেখাপড়ায়ও ভালো ছিল। প্রস্তুতি নিচ্ছিল বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার। ঠিক এ সময় পৃথিবী থেকে চলে যেতে হলো। অসুখের সাথে লড়াই করে পেরে উঠলো না। চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গেলো তার কন্ঠ। বেঁচে থাকলে অনেক বড়ো শিল্পী হতো সন্দেহ নেই। এখনো পাওশীর কন্ঠ কানে বাজে। বুকের ভেতর কষ্ট মোচড় দিয়ে ওঠে। মনে হয় যদি ফিরে আসতো। কিন্তু সেখানে থেকে কেউ যে আসে না। ভালো থেকো গানের পাখি।

 

Leave a Reply