পাওশির জন্য কিছু কথা

পাওশির জন্য কিছু কথা

মো: রাশেদুল হাছান (জীবন)

প্রভাষক, তালযন্ত্র বিভাগ

সরকারী সংগীত কলেজ, আগারগাঁও, ঢাকা।

ওস্তাদ ড: হারুন রশিদ এর বাসাতে প্রথম দেখি পাওশিকে তখন সে যষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। সে দিন সে কয়েকটি রাগ প্রধান গান গেয়েছিল। অবাক হয়েছিলাম তার কন্ঠের শক্তি এবং সেই সাথে সংগীত সাধনার প্রতিভার ইচ্ছা শক্তি দেখে। তারপর থেকে পারিবারিকভাবে আমরা ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ি।

সংগীত গুরুদের প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধ ছিল অগাধ। সে আমাকে ‘জীবন চাচা’ বলে ডাকতো। তার ডাক শুনলে আমার প্রাণ ভরে যেতো। আমার তবলার গুরু বাবু মদন গোপাল দাস তার সংগে সংগত করতেন। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ার পর পাওশি তাকে নিয়মিত দেখতে যেতো এবং তার চিকিৎসার জন্য তাকে ডাক্তারের নিকট নিয়ে যাওয়া আসা করতো। একবার গান গাইতে বসলে এক নাগাডে ২-৩ ঘন্টা গান গাওয়া তার স্বভাব। সত্যিকার অর্থে সে ছিল গান পাগল।

সংগীত ও লেখাপড়া দুটোতেই সে পারদর্শী ছিল। কিন্তু সংগীতকে সে উপরে স্থান দিতো। পরিশ্রম ও চর্চা করে সে জীবনে অনেক উঁচু মানের শিল্পী হতে চেয়েছিল। সে দেখতে মিষ্টি ও সুন্দরী ছিল। এসব গুন থাকা সত্ত্বেও সে নিরাহংকার ছিল। আমার নিজের মেয়ে নাই। সে আমার মনে মেয়ের স্থান দখল করে ছিল। তার মা প্রায়ই বলতো পাওশি একদিন বড় শিল্পী হবে। দেশ ও জাতীর জন্য কাজ করবে। যে কোন প্রতিভা আল্লাহর আর্শিবাদ। পাওশির পরিবার প্রতিভাকে লালন পালন করেছে।

তার গান এখনও আমার কানে বাজে। তাকে ভোলা কঠিন। আমি চাই সংগীতের নতুন প্রজন্ম তার মতো পরিশ্রমী হোক; আরো অনুশীলন করুক। আল্লাহ তাকে বেহেস্তবাসী করুন।

Leave a Reply