যেমন দেখেছি পাওশিকে

যেমন দেখেছি পাওশিকে

ফরিদা ইয়াছমিন

আমি তখন বাস করতাম বেইলী স্কোয়ার অফিসার্স কোয়ার্টারে। আমাদের বাসার সামনে ১৩নং বাসায় একজন নতুন কর্মকর্তা এলেন, নাম মো: নজুরুল ইসলাম সরকার। তাদের সংসারে ছিল ছোট একটি মেয়ে, নাম তার পাওশি। অফিস সময়ের পর বাসা ছিল আমার ভালো লাগার বিষয় ছিল আমার মায়ের আদর ও সন্তানদের স্নেহ। আমার সন্ধার পর হাটার অভ্যাস থাকার কারণে প্রায় দিনই নীচে হাটাহাটি করতাম। সেই হাটার সুবাদে পরিচয় হয় পাওশির মায়ের সাথে অতি সহজ সরল মানুষটি কে ভালো লেগে যায়। আলাপের মাধ্যমে যার প্রথম কথাটি ছিল পাওশিকে নিয়ে। পাওশি খুব লক্ষী মেয়ে, আর গান তার ধ্যান-জ্ঞান বলা যায়। পাওশির মা ছিল মেয়ের গানের প্রেরণা। পাওশি গান গাইতে ও শিখতে ভালবাসতো বলেই অনেক গানের শিক্ষক বাসায় এসে গান শিখাতেন। তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন আবু তাহের (নারায়নগঞ্জ)। এছাড়া, ঐ বাসায় আরো আসত ওস্তাদ অনিল কুমার সাহা, ওস্তাদ মদন কুমার পাল প্রমুখ প্রখ্যাত শিল্পীরা। প্রতিটি গানের শিক্ষক ছিল পাওশির সাথে আত্মার সম্পর্ক। প্রায়ই মায়ের সাথে সকাল বিকাল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গান শেখার জন্য বেরিয়ে যেতেন। আমি আমার ঐ বারান্দায় দাঁড়িয়ে পাওশিকে দেখে মুগ্ধ হতাম আর ভাবতাম সংগীতের জন্য কত আগ্রহ মেয়েটাকে কখনোই মাকে ছাড়া মেয়ে এবং মেয়ে ছাড়া মাকে দেখা যেতনা। সেই ছোট্র পাওশি আস্তে আস্তে বড় হয়ে এস,এস,সি এইচ,এস,সি ও মাস্টার্স ডিগ্রী লাভ করলো এবং গানের প্রতি আগ্রহী আরও বেড়ে গেল।

পাওশিকে আমরা ভালবাসতাম বলেই অরুপের মা, পাপড়ির মা গান শোনার জন্য বাসায় যেতাম। পাওশি অতি আগ্রহের সাথে আমাদের গান শোনাতেন। আমরা মুগ্ধ হয়ে লাজুক লাজুক চেহারায় ও ঘনকালো চুলে পাওশিকে দেখতে বেশ মিষ্টি লাগতো।

সেই মেয়েটি হঠাৎ করে ০৭/০৫/২০১৫ ইং তারিখে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। আমরা সবাই এই দুনিয়া ছেড়ে চলে যাব তার বিকল্প নাই। কিন্তু এত অল্প বয়সে একজন প্রতিয়মান সংস্কৃতিমনা গানের শিল্পী চলে গেল যা মেনে নেওয়া যায় না। পাওশির কথা লিখতে গিয়ে মনে হলো আমি কত সৌভাগ্যবান আল্লাহ মেহেরবাণীতে সরকারী চাকুরের সুবাদে বেইলী স্কোয়ার অফিসার্স কলোনীতে ৩৩ বছর থাকার সুযোগ হয়েছে। আর পরিচয় হয়েছে অনেক জ্ঞানী, গুনী ব্যক্তিবর্গের সাথে যাদের নাম না বললেই নয়। তাদের মধ্যে অন্যতম শ্রদ্ধেয় ডা: মোতাহার ভাই ও রিজু ভাবী, প্রফেসর মহিউদ্দিন ও তার পরিবারবর্গ ডা: শাহাদাত হোসেন, ডা: রাশিদা আপা ও মৃনাল সরকার পরিবার। আমার পরলোকগত পিতা মাতার অসুস্থ্যতার সময় অনেক প্রতিবেশী ছিল যারা অনেক সেবা করেছেন এবং বিপদে আপদে সহযোগীতাও করেছেন তার মধ্যে অন্যতম মকবুল ভাই ও ডা:মোতাহার হোসেন।

যাকে উদ্দেশ্য করে এই লেখা সেই পাওশির জন্য রইল অনেক দোয়া ও স্নেহ, আল্লাহ তাকে বেহেস্তবাসী করুন এবং পরিবারকে শান্তি এ ধৈর্য্য দেউক এই শোক ভোলার জন্য। বেইলী স্কোয়ারের অতীতের এবং বর্তমানের সকল কলোনীবাসী যে যেখানে থাকুন এই প্রত্যাশায় সবাইকে আমি শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করছি। লেখায় ভূলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর চোখে দেখবেন।

Leave a Reply